ডাক বিভাগের মোবাইল আর্থিক সেবাদাতা (এমএফএস) প্রতিষ্ঠান ‘নগদ’ চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকেই লেনদেনে নতুন ইতিহাস গড়েছে। জানুয়ারি থেকে মার্চ—এই তিন মাসে প্রতিষ্ঠানটির মোট লেনদেন দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ লাখ ১১ হাজার ৩৫৫ কোটি ৩২ লাখ টাকায়, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ২১ শতাংশ বেশি। এক প্রান্তিকে এটিই এখন পর্যন্ত নগদের সর্বোচ্চ লেনদেনের রেকর্ড।
প্রতিষ্ঠানটির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, শুধু লেনদেনের অঙ্কই নয়, গ্রাহক সম্পৃক্ততা ও মোট লেনদেন সংখ্যার ক্ষেত্রেও নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে নগদ। মাসভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, জানুয়ারিতে লেনদেন ছিল ৪০ হাজার ৩০১ কোটি টাকা, যা মার্চে বেড়ে দাঁড়ায় ৪১ হাজার ৪৬৯ কোটি টাকায়। তবে ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচনের প্রভাব এবং কিছু নিয়ন্ত্রক সীমাবদ্ধতার কারণে লেনদেন কিছুটা কমে ২৯ হাজার ৫৮৫ কোটি টাকায় নেমে আসে।
পেছনের বছরগুলোর প্রবণতা বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ২০২৫ সালের প্রথম প্রান্তিকে নগদের লেনদেন ছিল ৯২ হাজার ৫৪ কোটি টাকা। পরবর্তী প্রান্তিকে সামান্য কমে ৯১ হাজার ৩৩৩ কোটি টাকায় দাঁড়ালেও তৃতীয় প্রান্তিকে আবার তা বেড়ে হয় ৯২ হাজার ১২৫ কোটি টাকা। বছরের শেষ প্রান্তিকে নগদ প্রথমবারের মতো এক লাখ কোটি টাকার মাইলফলক অতিক্রম করে ১ লাখ ২ হাজার ৩৮১ কোটি টাকার লেনদেন সম্পন্ন করে। সেই ধারাবাহিকতারই শক্তিশালী প্রতিফলন দেখা গেল ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে।
নগদ কর্তৃপক্ষের মতে, গ্রাহকদের আস্থা ও ব্যবহার সহজ হওয়ায় প্রতিষ্ঠানটি ধারাবাহিকভাবে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে। ডিজিটাল লেনদেনের ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের মধ্যে নগদের গ্রহণযোগ্যতা দ্রুত বাড়ছে, যা দেশের আর্থিক অন্তর্ভুক্তিকে আরও গতিশীল করছে।
চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে লেনদেন ছাড়াও আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সূচকে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে নগদ। এ সময়ে ব্যাংক থেকে অ্যাড মানি, বিভিন্ন ধরনের বিল পেমেন্ট এবং প্রবাসী আয় গ্রহণের পরিমাণ আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি ছিল। পাশাপাশি সরকারি ভাতা ও উপবৃত্তি বিতরণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে প্ল্যাটফর্মটি।
নগদের প্রশাসক মো. মোতাছিম বিল্লাহ বলেন, “লেনদেনের এই ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি অত্যন্ত ইতিবাচক একটি দিক। কম খরচে সেবা দেওয়ার কারণে দেশের নিম্ন ও নিম্নমধ্যবিত্ত মানুষের কাছে নগদ দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।” তিনি জানান, প্রতি হাজার টাকায় নগদের ক্যাশ আউট চার্জ অন্যান্য অপারেটরের তুলনায় প্রায় সাড়ে ছয় টাকা কম, যা বাজারে সবচেয়ে প্রতিযোগিতামূলক।
তিনি আরও বলেন, “নগদে সেন্ড মানি সম্পূর্ণ ফ্রি। এছাড়া প্রবাসী আয় গ্রহণেও খরচ কম হওয়ায় গ্রাহকদের আস্থা দিন দিন বাড়ছে। এর ফলে আমরা নিয়মিত নিজেদের আগের রেকর্ড ভাঙতে পারছি এবং ভবিষ্যতে আরও বড় লেনদেনের লক্ষ্য অর্জনে আমরা আশাবাদী।”
ডিজিটাল আর্থিক সেবার বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়লেও কম খরচ, সহজ ব্যবহার এবং গ্রাহকবান্ধব নীতির কারণে ‘নগদ’ তার অবস্থান আরও শক্তিশালী করছে—এমনটাই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


