রমজান শুরু হতেই রাজধানীর ফলের বাজারে বেড়েছে ক্রেতাদের উপস্থিতি। ইফতারে স্বাস্থ্যকর খাবারের চাহিদা বাড়ায় দেশি–বিদেশি বিভিন্ন ফলের বিক্রি এখন তুঙ্গে। তবে আমদানি করা ফলের উচ্চমূল্যের কারণে অনেক ভোক্তা ঝুঁকছেন দেশীয় ফলের দিকে। ফলে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত তরমুজ, সাম্মাম, কলা, পেঁপে, বেল ও আনারসের বাজারে তৈরি হয়েছে নতুন গতি।
বিদেশি ফলের দামে ঊর্ধ্বগতি
রাজধানীর কারওয়ান বাজার, হাতিরপুল ও মোহাম্মদপুর টাউন হল বাজার ঘুরে দেখা গেছে, রোজার আগেই আমদানি নির্ভর ফলের দাম বাড়তে শুরু করে। বর্তমানে ভালো মানের আপেল, মাল্টা বা আঙুর কিনতে গেলে কেজিপ্রতি ৩০০ টাকার নিচে পাওয়া যাচ্ছে না। ব্যবসায়ীরা বলছেন, আমদানি করা ফলবাহী জাহাজ সময়মতো না পৌঁছানো এবং আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধির কারণে এ দাম বৃদ্ধি পেয়েছে।
ফল ব্যবসায়ীদের প্রত্যাশা, নতুন চালান এলে দাম কিছুটা কমতে পারে। তবে রোজার শুরুতে সরবরাহ ঘাটতি থাকায় বাজারে চাপ তৈরি হয়েছে।
দেশীয় ফলের দিকে ঝুঁকছেন ক্রেতারা
বিদেশি ফলের চড়া দামের প্রভাব পড়েছে ভোক্তা আচরণে। মধ্যবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্ত ক্রেতারা এখন তুলনামূলক সাশ্রয়ী দেশীয় ফল কিনছেন বেশি। বেশিরভাগ দেশীয় ফল ২০০ টাকার মধ্যেই পাওয়া যাচ্ছে, যা ক্রেতাদের নাগালের মধ্যে।
বর্তমানে বাজারে সবচেয়ে বেশি বিক্রি হচ্ছে তরমুজ। প্রতি কেজি ৮০ থেকে ১০০ টাকায় বিক্রি হওয়া তরমুজ ইফতারের টেবিলে অন্যতম জনপ্রিয় ফল। গড়ে তিন কেজি ওজনের একটি তরমুজ কিনতে খরচ পড়ছে ২৪০ থেকে ৩০০ টাকা।
সাম্মাম ও অন্যান্য ফলের চাহিদা
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশে সাম্মাম চাষ বাড়ায় এ ফলের সরবরাহও বেড়েছে। ছোট আকারের সাম্মাম বর্তমানে বাজারে পাওয়া যাচ্ছে, কেজিতে ৪–৫টি। মানভেদে প্রতি কেজি ১০০ থেকে ১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ব্যবসায়ীরা জানান, এপ্রিল নাগাদ ভরা মৌসুম শুরু হলে বড় আকারের সাম্মাম বাজারে আসবে এবং দাম কিছুটা কমবে।
এ ছাড়া বাঙ্গি, সফেদা, পাকা পেঁপে, বেল ও আনারসের চাহিদাও রয়েছে।
- আনারস প্রতি পিছ ৩০–৬০ টাকা
- বেল আকারভেদে ৮০–২০০ টাকা
- পেঁপে প্রতি কেজি ৮০–১২০ টাকা
- বাঙ্গি ৮০–১০০ টাকা
- সফেদা ১৫০–১৮০ টাকা
তবে মৌসুম না থাকায় আতাফল ও ড্রাগন ফলের দাম তুলনামূলক বেশি। আতাফল ২৫০–৩০০ টাকা এবং ড্রাগন ফল ৩০০–৪০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
ই-কমার্সেও বাড়ছে ফলের বিক্রি
খুচরা বাজারের পাশাপাশি অনলাইন প্ল্যাটফর্মেও ফলের অর্ডার বাড়ছে। বিশেষ করে নগরবাসীর মধ্যে বাসায় ডেলিভারি সুবিধা জনপ্রিয় হওয়ায় বিভিন্ন ই-কমার্স ও গ্রোসারি অ্যাপ রমজানকে ঘিরে ফলের বিশেষ অফার চালু করেছে। এতে বাজারের সামগ্রিক লেনদেন আরও সক্রিয় হয়েছে।
অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব
বিশ্লেষকদের মতে, বিদেশি ফলের দাম বাড়লেও তা দেশীয় ফলচাষিদের জন্য সুযোগ তৈরি করেছে। স্থানীয় উৎপাদনের চাহিদা বাড়ায় কৃষকরা তুলনামূলক ভালো দাম পাচ্ছেন। পাশাপাশি ভোক্তারাও তাজা ফল কম দামে কিনতে পারছেন।


