‘যুক্তরাষ্ট্র–বাংলাদেশ পারস্পরিক বাণিজ্যচুক্তি’ ঘিরে চলমান আলোচনা ও সমালোচনার প্রেক্ষাপটে উদ্বেগের কোনো কারণ নেই বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির। তাঁর ভাষ্য, চুক্তির ভেতরেই এমন ব্যবস্থা রাখা আছে যাতে দেশের স্বার্থবিরোধী কোনো ধারা থাকলে তা সংশোধন করা সম্ভব।
মঙ্গলবার সচিবালয়ে ব্রেন্ডন লিঞ্চ–এর নেতৃত্বে যুক্তরাষ্ট্রের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। ৫–৭ মে ঢাকায় অবস্থানরত এই প্রতিনিধি দল দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতা জোরদারে বিভিন্ন ইস্যুতে আলোচনা করছে।
চুক্তি বাতিল নয়, সংশোধনের পথেই গুরুত্ব
চুক্তিটি বাংলাদেশের জন্য প্রতিকূল—এমন সমালোচনার জবাবে মন্ত্রী সরাসরি বাতিলের সম্ভাবনা উড়িয়ে না দিলেও ইঙ্গিত দেন বাস্তববাদী অবস্থানের দিকে। তিনি বলেন,
“সরকার জনগণের প্রতিনিধিত্ব করে। তাই যেকোনো আন্তর্জাতিক চুক্তির ক্ষেত্রেই আমরা দেশের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিই। এই চুক্তিতেও ‘সেলফ-কেয়ারিং এলিমেন্ট’ রয়েছে—অর্থাৎ প্রয়োজন হলে সংশোধনের সুযোগ আছে।”
তিনি আরও যোগ করেন, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যচুক্তি একতরফা নয়; বরং পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে গড়ে ওঠে। ফলে উভয় দেশের জন্যই একটি ‘উইন-উইন’ পরিস্থিতি নিশ্চিত করাই মূল লক্ষ্য।
উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া চুক্তি, কিন্তু কাজে লাগানোর লক্ষ্য
মন্ত্রী স্পষ্ট করেন, বর্তমান সরকার এই চুক্তির সূচনাকারী না হলেও রাষ্ট্রীয় ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে এটি বহাল রয়েছে।
“রাষ্ট্রীয় চুক্তি ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তে বাতিল করা যায় না। বরং আমরা চাই এটিকে দেশের রপ্তানি বৃদ্ধি, বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং ই-কমার্সসহ আধুনিক বাণিজ্য খাতে প্রসারের জন্য কাজে লাগাতে,”—বলেন তিনি।
যুক্তরাষ্ট্রের তদন্ত প্রসঙ্গে বাংলাদেশের অবস্থান
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে শুরু হওয়া একটি তদন্ত প্রসঙ্গেও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাখ্যা চেয়েছে বলে জানান মন্ত্রী।
তিনি বলেন, “বিদ্যমান চুক্তির আলোকে এ ধরনের তদন্ত না হলে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও ইতিবাচক থাকত—এ কথা আমরা যুক্তরাষ্ট্রকে স্পষ্টভাবে জানিয়েছি।”
ডাম্পিং অভিযোগ ‘ভিত্তিহীন’
বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ডাম্পিংয়ের অভিযোগ প্রসঙ্গে মন্ত্রী তা দৃঢ়ভাবে নাকচ করেন। তাঁর মতে,
“বাংলাদেশ মূলত আমদানিনির্ভর দেশ। যে সীমিত পণ্য আমরা রপ্তানি করি—বিশেষ করে তৈরি পোশাক—তা কঠোর আন্তর্জাতিক মান ও কমপ্লায়েন্স মেনে উৎপাদিত হয়। সেখানে শ্রম আইন লঙ্ঘন বা শিশুশ্রমের কোনো সুযোগ নেই।”
ই-কমার্স খাতে সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই চুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশের ই-কমার্স খাত নতুন গতি পেতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি, ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থা ও লজিস্টিকস সক্ষমতার সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের সুযোগ তৈরি হলে স্থানীয় উদ্যোক্তারা বৈশ্বিক বাজারে প্রবেশে বাড়তি সুবিধা পাবেন।
সব মিলিয়ে, সরকার চুক্তিকে ঝুঁকি নয় বরং সম্ভাবনার দৃষ্টিতে দেখছে—এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সংশোধনের মাধ্যমে জাতীয় স্বার্থ রক্ষার আশ্বাস দিচ্ছে।


