ডিজিটাল ব্যাংকিং সেবাকে আরও সহজ, দ্রুত এবং নিরাপদ করতে ইলেকট্রনিক নো-ইয়োর-কাস্টমার (ই-কেওয়াইসি)–সংক্রান্ত নীতিমালা হালনাগাদ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নতুন এই নির্দেশিকা আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হবে। এর মাধ্যমে গ্রাহক পরিচয় যাচাই প্রক্রিয়াকে সম্পূর্ণ ডিজিটাল করার পাশাপাশি আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বাড়ানো এবং প্রতারণা ও জালিয়াতি প্রতিরোধের লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, প্রযুক্তিনির্ভর ব্যাংকিং সেবা সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে এই নীতিমালা সংশোধন করা হয়েছে। নতুন নিয়ম কার্যকর হলে ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলো ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে তাৎক্ষণিকভাবে গ্রাহকের হিসাব খুলতে পারবে। এতে গ্রাহকদের ব্যাংক শাখায় উপস্থিত না হয়েও অনলাইনে দ্রুত হিসাব খোলার সুযোগ তৈরি হবে।
নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, গ্রাহকের ছবি সংগ্রহ, জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) তথ্য যাচাই এবং বায়োমেট্রিক প্রযুক্তির মাধ্যমে পরিচয় নিশ্চিত করে ই-কেওয়াইসি প্রোফাইল তৈরি করা হবে। এ ক্ষেত্রে আঙুলের ছাপ অথবা মুখাবয়ব শনাক্তকরণ প্রযুক্তি ব্যবহার করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ফেস-ম্যাচিং প্রযুক্তির মাধ্যমে গ্রাহকের ছবি ও এনআইডি ডাটাবেজের তথ্য মিলিয়ে দ্রুত পরিচয় যাচাই করা সম্ভব হবে।
গ্রাহকের ঝুঁকির মাত্রা বিবেচনায় রেখে নীতিমালায় দুটি আলাদা ই-কেওয়াইসি মডেল রাখা হয়েছে। এর মধ্যে ‘সিম্পলিফাইড ই-কেওয়াইসি’ কম ঝুঁকিপূর্ণ গ্রাহক এবং আর্থিক অন্তর্ভুক্তির আওতাভুক্ত হিসাবের জন্য প্রযোজ্য হবে। অন্যদিকে ‘রেগুলার ই-কেওয়াইসি’ ব্যবহার করা হবে বড় অঙ্কের লেনদেন এবং নিয়মিত ব্যাংকিং কার্যক্রমের ক্ষেত্রে।
ই-কেওয়াইসির মাধ্যমে খোলা হিসাবের ক্ষেত্রে লেনদেনের নির্দিষ্ট সীমাও নির্ধারণ করা হয়েছে। নির্দেশনা অনুযায়ী, এ ধরনের হিসাবে মাসিক সর্বোচ্চ তিন লাখ টাকা নগদ জমা দেওয়া যাবে এবং সর্বোচ্চ পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থ স্থানান্তরের সুযোগ থাকবে। পাশাপাশি প্রতিদিন এক লাখ টাকা পর্যন্ত নগদ জমা এবং দৈনিক আড়াই লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থ স্থানান্তর করা যাবে। তবে প্রবাসী আয় ও সরকারি ভাতা গ্রহণের ক্ষেত্রে এই সীমা প্রযোজ্য হবে না।
এ ছাড়া নতুন ব্যবস্থার মাধ্যমে গ্রাহকেরা কোনো এজেন্ট বা ব্যাংক কর্মকর্তার সহায়তা ছাড়াই নিজেই স্মার্টফোন বা কম্পিউটার ব্যবহার করে হিসাব খুলতে পারবেন। বিশেষ করে গ্রামীণ অঞ্চলের মানুষ এবং বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য এটি বড় সুবিধা তৈরি করবে। বৈধ জাতীয় পরিচয়পত্র থাকলে প্রবাসে থাকা বাংলাদেশিরাও মোবাইল অ্যাপ বা ওয়েবসাইটের মাধ্যমে ই-কেওয়াইসি সম্পন্ন করে সহজেই ব্যাংক হিসাব খুলতে পারবেন।
গ্রাহকের তথ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নির্দেশনায় দ্বিস্তরবিশিষ্ট যাচাই পদ্ধতি এবং শক্তিশালী ডেটা এনক্রিপশন ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি গ্রাহকের সব তথ্য দেশের অভ্যন্তরে অবস্থিত সার্ভারে সংরক্ষণ করতে হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক আশা করছে, নতুন এই নীতিমালা কার্যকর হলে দেশের ডিজিটাল ব্যাংকিং সেবায় গতি আসবে। এতে একদিকে গ্রাহকের জন্য ব্যাংকিং সেবা গ্রহণ সহজ হবে, অন্যদিকে ব্যাংকগুলোর পরিচালন ব্যয়ও কমবে। একই সঙ্গে প্রযুক্তিনির্ভর যাচাই ব্যবস্থার ফলে আর্থিক খাতে স্বচ্ছতা বাড়বে এবং জালিয়াতি প্রতিরোধেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।


