বিদায়ী এপ্রিল মাসেও শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশের প্রবাসী আয় (রেমিট্যান্স)। মাসটিতে দেশে এসেছে ৩১২ কোটি ৭০ লাখ মার্কিন ডলার, যা ৩ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক অতিক্রম করেছে। এর ফলে গত ডিসেম্বর থেকে টানা পাঁচ মাস ধরে ৩ বিলিয়ন ডলারের বেশি রেমিট্যান্স প্রবাহ বজায় থাকলো—যা দেশের বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের ক্ষেত্রে ইতিবাচক প্রবণতারই ইঙ্গিত দিচ্ছে।
রোববার বাংলাদেশ ব্যাংক এপ্রিলে প্রবাসী আয়ের সর্বশেষ তথ্য প্রকাশ করেছে। তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের এই ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে স্বস্তি এনে দিচ্ছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, পবিত্র ঈদুল ফিতরকে ঘিরে প্রবাসী বাংলাদেশিদের অর্থ পাঠানোর প্রবণতা বেড়েছে। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা—বিশেষ করে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে ঘিরে অস্থিরতা—প্রবাসীদের মধ্যে অর্থ দেশে পাঠানোর প্রবণতা আরও জোরদার করেছে। এই ধারা অব্যাহত থাকলে আসন্ন ঈদুল আজহাকেও ঘিরে রেমিট্যান্সে ইতিবাচক প্রবাহ দেখা যেতে পারে বলে মনে করছেন ব্যাংকাররা।
এছাড়া ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়নও রেমিট্যান্স বৃদ্ধির একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যের সংকটের কারণে বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে অস্থিরতা তৈরি হওয়ায় ডলারের বিনিময় হার বেড়েছে, ফলে প্রবাসীরা বেশি টাকা পাচ্ছেন—যা তাদের দেশে বেশি অর্থ পাঠাতে উৎসাহিত করছে।
এর আগে মার্চ মাসে রেমিট্যান্সে নতুন রেকর্ড গড়ে ৩৭৫ কোটি ডলার দেশে পাঠান প্রবাসীরা, যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। এটি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ১৪ শতাংশ বেশি।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ডিসেম্বর মাসে ৩২২ কোটি, জানুয়ারিতে ৩১৭ কোটি, ফেব্রুয়ারিতে ৩০২ কোটি এবং মার্চে ৩৭৫ কোটি ডলার রেমিট্যান্স এসেছে—যা ধারাবাহিকভাবে শক্তিশালী প্রবৃদ্ধির ইঙ্গিত দেয়।
রিজার্ভ রক্ষায় সতর্কতার পরামর্শ
তবে এই ইতিবাচক প্রবণতার মধ্যেও সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন অর্থনীতিবিদরা। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি হতে পারে, যার প্রভাব বাংলাদেশেও পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সঙ্গে বৈঠকে দেশের আটজন খ্যাতনামা অর্থনীতিবিদ বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ধরে রাখার ওপর জোর দেন। তাদের মতে, বৈশ্বিক অস্থিরতা বাড়লে ডলারের ওপর চাপ তৈরি হবে, ফলে রিজার্ভ সুরক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
অর্থনীতিবিদরা আরও বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে নীতি সুদহার কমানোর মতো সিদ্ধান্ত নেওয়া ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। বরং পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে বিনিয়োগ বৃদ্ধির লক্ষ্যে ধীরে ধীরে ঋণের সুদের হার কমানোর উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে।


