চলতি ২০২৫–২৬ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে (জুলাই–ডিসেম্বর) দেশের শীর্ষ ইলেকট্রনিক পণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ওয়ালটন হাইটেক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড উল্লেখযোগ্য মুনাফা প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। এ সময় কোম্পানিটির মুনাফা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৬৩ কোটি টাকায়, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৬০ কোটি টাকা বা ২০ শতাংশেরও বেশি।
২০২৪–২৫ অর্থবছরের জুলাই–ডিসেম্বর সময়ে ওয়ালটনের মুনাফা ছিল ৩০৪ কোটি টাকা। এক বছরের ব্যবধানে এই প্রবৃদ্ধি কোম্পানিটির আর্থিক সক্ষমতা ও কার্যকর ব্যবস্থাপনার ইতিবাচক প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ওয়ালটন হাইটেক ইন্ডাস্ট্রিজের অর্ধবার্ষিক আর্থিক প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে। শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠান হিসেবে রোববার স্টক এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের কাছে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়। এর আগে গত বৃহস্পতিবার কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদের সভায় প্রতিবেদনটি আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদন দেওয়া হয়।
আর্থিক বিবরণী অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে ওয়ালটনের মোট বিক্রি বা টার্নওভার দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৭৬২ কোটি টাকা, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের ২ হাজার ৫৪৬ কোটি টাকার তুলনায় ২১৬ কোটি টাকা বা প্রায় সাড়ে ৮ শতাংশ বেশি।
তবে বিক্রির তুলনায় মুনাফা বৃদ্ধির হার আরও বেশি হওয়ায় বিশ্লেষকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে ওয়ালটনের ব্যয় ব্যবস্থাপনা। বিশেষ করে সুদবাবদ ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ায় মুনাফা বৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রেখেছে। চলতি অর্থবছরের জুলাই–ডিসেম্বর সময়ে সুদ ব্যয় নেমে এসেছে ৯৬ কোটি টাকায়, যেখানে আগের অর্থবছরের একই সময়ে এই ব্যয় ছিল ১৯৭ কোটি টাকা। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে সুদ ব্যয় ১০০ কোটি টাকারও বেশি কমেছে, যা সরাসরি মুনাফা বাড়াতে সহায়ক হয়েছে।
প্রতিবেদন বিশ্লেষণে আরও দেখা যায়, চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসেই ওয়ালটনের ব্যবসায়িক প্রবৃদ্ধির বড় অংশ অর্জিত হয়েছে। সাধারণত মৌসুমি প্রভাবের কারণে অক্টোবর–ডিসেম্বর প্রান্তিকে ইলেকট্রনিক পণ্যের বিক্রি কিছুটা কমে যায়।
অক্টোবর–ডিসেম্বর প্রান্তিকে ওয়ালটনের বিক্রি হয়েছে ১ হাজার ৩১১ কোটি টাকা, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ১ হাজার ৩৩২ কোটি টাকা। অর্থাৎ এই প্রান্তিকে বিক্রি কমেছে প্রায় ২১ কোটি টাকা। একই সময়ে মুনাফা দাঁড়িয়েছে ১৪২ কোটি টাকা, যেখানে আগের বছর ছিল ১৫৫ কোটি টাকা।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ওয়ালটন হাইটেক ইন্ডাস্ট্রিজের কোম্পানি সচিব রফিকুল ইসলাম বলেন, “শীত মৌসুমে সাধারণত ইলেকট্রনিকস খাতে চাহিদা কিছুটা কম থাকে, ফলে বছরের শেষ তিন মাসে বিক্রির গতি মন্থর হয়। তবে বছরের অন্যান্য সময়ে আমাদের ব্যবসা ভালো হয়েছে। চলতি অর্থবছরের এখনও প্রায় ছয় মাস বাকি রয়েছে। আমরা আশাবাদী, এই সময়ে বিক্রি আরও বাড়বে এবং বছর শেষে মুনাফা ও ব্যবসায়িক প্রবৃদ্ধির এই ধারা বজায় রাখা সম্ভব হবে।”


