সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেছেন, দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অন্যতম কৌশলগত সমুদ্রবন্দর মোংলা বন্দর এখনো তার পূর্ণ সক্ষমতায় পরিচালিত হচ্ছে না। প্রয়োজনীয় কিছু অবকাঠামোগত ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ দ্রুত বাস্তবায়ন করা গেলে মোংলাকে একটি পরিপূর্ণ, কার্যকর ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন সামুদ্রিক বন্দর হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব।
শনিবার দুপুরে বন্দর পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মন্ত্রী বলেন, মোংলা বন্দরের উন্নয়নে নৌ, রেল ও সড়ক—তিনটি যোগাযোগ মাধ্যমই ইতোমধ্যে বিদ্যমান। তবে সমন্বিত পরিকল্পনার অভাবে এসব সুবিধার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা যায়নি। বন্দর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনায় তাৎক্ষণিক কিছু পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে ঐকমত্য হয়েছে বলে জানান তিনি।
মন্ত্রী আরও বলেন, মোংলা বন্দরের অবকাঠামো ও সেবার মান উন্নত করা গেলে এটি দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর চট্টগ্রাম বন্দর–এর মতোই সফল ও প্রতিযোগিতামূলক হয়ে উঠতে পারে। আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে বিকল্প প্রবেশদ্বার হিসেবে মোংলার গুরুত্ব বাড়ানো গেলে দেশের ই-কমার্স, রপ্তানিমুখী শিল্প ও লজিস্টিক খাতও বড় ধরনের সুবিধা পাবে। বিশেষ করে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থানে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
পুরোনো চুক্তি পর্যালোচনায় গুরুত্ব
বিগত সরকারের আমলে মোংলা বন্দরসংক্রান্ত যেসব চুক্তি সম্পাদিত হয়েছে, সেগুলো নতুন করে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হবে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, জাতীয় স্বার্থ, অর্থনৈতিক নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। যেসব চুক্তি দেশের বাণিজ্য ও অর্থনীতির জন্য সহায়ক, সেগুলো বহাল রাখা হবে। আর যেসব ক্ষেত্রে দেশের স্বার্থ ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, সেগুলো আইনানুগ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে পুনর্বিবেচনা করা হবে।
মন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, “আমাদের বাণিজ্য, অর্থনীতি ও সমৃদ্ধি—এই তিনটি বিষয়ই হবে প্রধান বিবেচ্য। ন্যায্যতা যেখানে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, তা অবশ্যই বজায় থাকবে।”
রেলসংযোগে গতি আনার পরিকল্পনা
মোংলা বন্দরের কার্যক্রম জোরদারে রেলপথকে আরও গতিশীল করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন মন্ত্রী। তিনি জানান, খুলনা-মোংলা রেললাইন নির্মাণ সম্পন্ন হলেও পর্যাপ্ত ইঞ্জিন ও কোচের অভাবে কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় ট্রেন চলাচল শুরু হয়নি। দ্রুত সময়ের মধ্যে একাধিক ট্রেন এই রুটে চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে।
রেল খাতের সামগ্রিক সমস্যা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, অতীতে পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের মধ্যে সমন্বয়ের ঘাটতি ছিল। কখনো রেললাইন তৈরি হয়েছে, কিন্তু ইঞ্জিন ও কোচ সময়মতো সরবরাহ হয়নি। ভবিষ্যতে নতুন রেললাইন চালুর ক্ষেত্রে সমন্বিত পরিকল্পনা নেওয়া হবে—যাতে রেললাইন নির্মাণ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পর্যাপ্ত ইঞ্জিন ও কোচ প্রস্তুত থাকে এবং বিলম্ব ছাড়াই ট্রেন চলাচল শুরু করা যায়।
ই-কমার্স ও লজিস্টিক খাতে সম্ভাবনা
বিশেষজ্ঞদের মতে, মোংলা বন্দর পূর্ণ সক্ষমতায় পরিচালিত হলে দেশের ই-কমার্স খাতে আমদানি-রপ্তানি প্রক্রিয়া আরও দ্রুত ও ব্যয়-সাশ্রয়ী হবে। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক কুরিয়ার, ক্রস-বর্ডার ই-কমার্স ও রপ্তানিমুখী ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হতে পারে।
বন্দর পরিদর্শনকালে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল শাহীন রহমানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সরকারের সমন্বিত উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে মোংলা বন্দর দেশের সামুদ্রিক বাণিজ্যে নতুন গতিশীলতা আনবে বলে আশা সংশ্লিষ্টদের।


