দেশের স্বর্ণবাজারে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো বড় ধরনের দরপতন দেখা গেছে। শনিবার সকালে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) নতুন মূল্যতালিকা প্রকাশ করলে প্রতি ভরি সোনার দামে এক লাফে ১৫ হাজার ৭৪৬ টাকা কমানো হয়, যা একদিনে দাম কমানোর দিক থেকে সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ফলে ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার নতুন দাম নির্ধারিত হয়েছে ২ লাখ ৫৫ হাজার ৬১৭ টাকা।
এর আগে শুক্রবারও ভরিপ্রতি ১৪ হাজার ৬৩৮ টাকা কমানো হয়েছিল। অর্থাৎ মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে স্বর্ণের দাম কমেছে মোট ৩০ হাজার ৩৮৪ টাকা—যা বাজারে এক ধরনের স্বস্তির বার্তা নিয়ে এসেছে ক্রেতাদের জন্য। তবে এই স্বস্তির আগে গত বৃহস্পতিবার দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ মূল্য ছুঁয়েছিল সোনা। সেদিন ভরিপ্রতি ১৬ হাজার ২১৩ টাকা বেড়ে ভালো মানের এক ভরি সোনার দাম উঠেছিল প্রায় ২ লাখ ৮৬ হাজার টাকায়।
পাঁচ বছরে সোনার দামের উল্লম্ফন
করোনাভাইরাস মহামারির পর বিশ্ববাজারে সোনার চাহিদা ও দামের ধারাবাহিক উত্থান দেশের বাজারেও প্রভাব ফেলেছে। ২০২৩ সালের জুলাইয়ে প্রথমবারের মতো দেশে সোনার ভরি ১ লাখ টাকা অতিক্রম করে। এরপর ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে দেড় লাখ এবং একই বছরের অক্টোবরে দুই লাখ টাকার মাইলফলক স্পর্শ করে। সর্বশেষ গত সপ্তাহেই সোনার দাম আড়াই লাখ টাকার সীমা পেরিয়ে যায়, যা সাধারণ ক্রেতাদের জন্য একপ্রকার বিস্ময় তৈরি করেছিল।
অন্যান্য ক্যারেটেও বড় ছাড়
শুধু ২২ ক্যারেট নয়, অন্যান্য মানের সোনার দামেও বড় ধরনের হ্রাস এসেছে। নতুন দরে—
- ২১ ক্যারেট সোনা ভরিতে কমেছে ১৪ হাজার ৯৮৮ টাকা, দাম দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৪৪ হাজার ১১ টাকা।
- ১৮ ক্যারেট সোনা ভরিতে কমেছে ১২ হাজার ৮৮৮ টাকা, নতুন দাম ২ লাখ ৯ হাজার ১৩৬ টাকা।
- সনাতন পদ্ধতির সোনা ভরিতে ১০ হাজার ৯৬৪ টাকা কমে হয়েছে ১ লাখ ৭১ হাজার ৮৬৯ টাকা।
বাজুস জানিয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবী বা পাকা সোনার দর কমার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দামের নিম্নমুখী প্রবণতার কারণেই এই সমন্বয় করা হয়েছে।
রুপার বাজারেও প্রভাব
সোনার পাশাপাশি রুপার বাজারেও মূল্যহ্রাস লক্ষ্য করা গেছে। নতুন দরে—
- ২২ ক্যারেট রুপা ভরিতে কমেছে ৪৬৭ টাকা, দাম ৭ হাজার ২৯০ টাকা।
- ২১ ক্যারেট রুপা ৪৬৭ টাকা কমে ৬ হাজার ৯৪০ টাকা।
- ১৮ ক্যারেট রুপা ৪০৮ টাকা কমে ৫ হাজার ৯৪৯ টাকা।
- সনাতন রুপা ৩৫০ টাকা কমে ৪ হাজার ৪৩২ টাকায় নেমেছে।
এক সপ্তাহে ছয়বার দরবদল
গত এক সপ্তাহে সোনার বাজারে অস্বাভাবিক ওঠানামা দেখা গেছে। রবিবার থেকে শনিবার সকাল পর্যন্ত মোট ছয় দফা মূল্য পরিবর্তন হয়েছে। এর মধ্যে চারবার দাম বেড়েছে এবং দুবার কমেছে। প্রথমে ধাপে ধাপে দাম বাড়তে বাড়তে বৃহস্পতিবার সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়। এরপর টানা দুই দিন বড় অঙ্কে কমে গিয়ে বর্তমানে দাম আবার আগের অবস্থানে ফিরে এসেছে।
সব মিলিয়ে বলা যায়, এক সপ্তাহের চরম অস্থিরতার পর স্বর্ণবাজার আপাতত স্থিতিশীল অবস্থানে ফিরেছে। এতে বিনিয়োগকারী ও সাধারণ ক্রেতা—উভয় পক্ষই কিছুটা স্বস্তি পাচ্ছেন, যদিও আন্তর্জাতিক বাজারের গতিপ্রকৃতি আগামী দিনে দামের ওপর আবারও প্রভাব ফেলতে পারে।


