দেশের উদীয়মান উদ্যোক্তাদের জন্য টেকসই নেতৃত্ব গড়ে তোলা এবং স্থানীয় পর্যায়ে শক্তিশালী নেটওয়ার্ক তৈরির লক্ষ্যে ‘স্মার্ট লিডারশিপ’ ও ‘জোনাল কনসেপ্ট’-এর কার্যকারিতা নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ রাউন্ডটেবিল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রাজধানীর কালাবাগানের ৫০, লেক সার্কাসে আয়োজিত এ সেশনে সহযোগিতা করে সেন্টার ফর এন্টারপ্রেনিউরিয়াল পলিসি, ইনোভেশন, রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (সিইপিআইআরডি)।
অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ই-ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা মো. শাহরিয়ার খান। সঞ্চালনায় ছিলেন সংগঠনটির সিনিয়র সহ-সভাপতি আব্দুল্লাহ সাফি। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এক্সিকিউটিভ কমিটির সভাপতি কামরুল হাসান এবং ফাউন্ডার মেম্বার ও ফাউন্ডার্স ওয়েলফেয়ার কমিটির চেয়ারম্যান শেখ আবুল হাশেম।
এছাড়াও আলোচনায় অংশ নেন ফাইনান্স সেক্রেটারি আরিফুর রহমান ভূঁইয়া, মেম্বার ওয়েলফেয়ার ডিরেক্টর দেওয়ান ইফাত আহমেদ শশী, এক্সিকিউটিভ কমিটির সদস্য শেখ রাশেদুল বারী, এক্সটার্নাল অ্যাফেয়ার্স অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপ স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান মো. শাখাওয়াত হোসেন এবং ই-ক্লাব উইমেনস ফোরামের ডিরেক্টর ইয়াসমিন আক্তার আরবীসহ প্রায় ২০ জন উদ্যোক্তা সদস্য।
রাউন্ডটেবিলের মূল আলোচ্য বিষয় ছিল—জোনাল কনসেপ্টের মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে উদ্যোক্তাদের সংযুক্ত করে একটি শক্তিশালী ও কার্যকর ইকোসিস্টেম তৈরি করা। বক্তারা বলেন, বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক ব্যবসায়িক পরিবেশে শুধু ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, বরং সমন্বিত নেতৃত্ব ও পারস্পরিক সহযোগিতাই টেকসই উন্নয়নের মূল চাবিকাঠি।
আলোচনায় উঠে আসে, জোনাল ভিত্তিক কার্যক্রম চালুর মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে উদ্যোক্তাদের মধ্যে যোগাযোগ, জ্ঞান বিনিময় এবং ব্যবসায়িক সহযোগিতা আরও বৃদ্ধি পাবে। এ লক্ষ্যে ই-ক্লাব ‘জোনাল লিডারশিপ প্রোগ্রাম’ চালুর পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এই প্রোগ্রামের আওতায় প্রতিটি অঞ্চল থেকে নির্বাচিত উদ্যোক্তাদের বিশেষ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ নেতা হিসেবে গড়ে তোলা হবে। প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত এসব জোনাল লিডার নিজ নিজ এলাকায় নতুন উদ্যোক্তাদের দিকনির্দেশনা, ব্যবসায়িক সহায়তা এবং নেটওয়ার্কিং সুবিধা প্রদান করবেন।
অংশগ্রহণকারীরা মনে করেন, এই উদ্যোগ দেশের উদ্যোক্তা খাতে একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে। একাধিক সদস্য বলেন, “জোনাল কনসেপ্টের মাধ্যমে একটি শক্তিশালী কানেক্টিভিটি তৈরি হবে, যা স্থানীয় পর্যায় থেকে জাতীয় পর্যায়ে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে সক্ষম।” অন্য একজন অংশগ্রহণকারী মন্তব্য করেন, “এই সেশন আমাদের নেতৃত্ব, সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং দায়িত্ববোধ সম্পর্কে নতুনভাবে ভাবতে শিখিয়েছে।”
অনুষ্ঠান শেষে একটি প্রাণবন্ত নেটওয়ার্কিং সেশন অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে অংশগ্রহণকারীরা নিজেদের অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং ভবিষ্যৎ সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন। ই-ক্লাব কর্তৃপক্ষ জানায়, উদ্যোক্তাদের জন্য একটি কাঠামোবদ্ধ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক প্ল্যাটফর্ম গড়ে তুলতে এ ধরনের আয়োজন নিয়মিতভাবে চালিয়ে যাওয়া হবে।
উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে প্রতিষ্ঠিত ই-ক্লাব বর্তমানে প্রায় ৭০০ নিবন্ধিত উদ্যোক্তার একটি সক্রিয় সংগঠন। ‘ভিন্নতা’, ‘প্রসার’, ‘ইনভেস্টমেন্ট নেস্ট’ এবং ‘বন্ধন’সহ বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে সংগঠনটি দীর্ঘদিন ধরে দেশের উদ্যোক্তা উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে যাচ্ছে।

