দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার করতে জরুরি ভিত্তিতে ২ লাখ ৬০ হাজার টন জ্বালানি তেল আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এর মধ্যে রয়েছে ১ লাখ টন অপরিশোধিত তেল এবং ১ লাখ ৬০ হাজার টন ডিজেল। বৈশ্বিক বাজারে অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে অভ্যন্তরীণ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে এই পদক্ষেপকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
মঙ্গলবার অর্থমন্ত্রী Amir Khasru Mahmud Chowdhury-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এই প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়। এর আগে একই বিষয়ে অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটিতে নীতিগত অনুমোদন নেওয়া হয়।
বৈঠক শেষে অর্থমন্ত্রী জানান, বর্তমান পরিস্থিতিতে জ্বালানি তেল সরবরাহ নিশ্চিত করাই সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। বৈশ্বিক অস্থিরতার কারণে যেকোনো সময় সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি থাকায় আগাম প্রস্তুতি হিসেবে এই আমদানি কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে।
কোথা থেকে আসছে জ্বালানি তেল
সরকারি সূত্রে জানা গেছে, আন্তর্জাতিক বাজার থেকে সরাসরি ক্রয়পদ্ধতিতে অপরিশোধিত তেল সংগ্রহ করা হবে Abir Trade and Global Markets থেকে। দ্রুত সরবরাহ নিশ্চিত করতে টেন্ডার প্রক্রিয়ার পরিবর্তে সরাসরি ক্রয়পদ্ধতি বেছে নেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, ডিজেল আমদানির জন্য দুটি আন্তর্জাতিক সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানকে বেছে নেওয়া হয়েছে—
- PT Bumi Siak Pusako Jaya (ইন্দোনেশিয়া) থেকে ৬০ হাজার টন
- ExxonMobil Kazakhstan Incorporated থেকে ১ লাখ টন
কেন জরুরি এই আমদানি
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা ও সংঘাতের কারণে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এতে করে সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে এবং দামেও ওঠানামা দেখা যাচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতিতে আগাম জ্বালানি মজুত গড়ে তোলা না হলে দেশের শিল্প, পরিবহন এবং ই-কমার্স খাত বড় ধরনের চাপে পড়তে পারে। বিশেষ করে অনলাইন বাণিজ্য, লজিস্টিকস এবং ডেলিভারি সেবাগুলোর কার্যক্রম সরাসরি জ্বালানির ওপর নির্ভরশীল।
ই-কমার্স খাতে প্রভাব
ই-কমার্স খাতে জ্বালানি তেলের গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি। পণ্য পরিবহন, ওয়্যারহাউজিং এবং লাস্ট-মাইল ডেলিভারির জন্য ডিজেলচালিত যানবাহনের ওপর নির্ভরতা রয়েছে। ফলে জ্বালানির সরবরাহে বিঘ্ন ঘটলে ডেলিভারি সময়, খরচ এবং সার্ভিস কোয়ালিটির ওপর সরাসরি প্রভাব পড়ে।
সরকারের এই উদ্যোগ ই-কমার্স খাতের জন্য ইতিবাচক সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে, কারণ এতে সরবরাহ চেইন সচল রাখা সহজ হবে।
যেসব প্রস্তাব প্রত্যাহার
তবে একই বৈঠকে কিছু প্রস্তাব প্রত্যাহার করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—
- হংকংভিত্তিক ফালকো করপোরেশন লিমিটেড থেকে ১ লাখ টন অপরিশোধিত তেল ক্রয়ের প্রস্তাব
- আর্চার এনার্জি এলএলসি থেকে ৬০ হাজার টন ডিজেল ক্রয়ের প্রস্তাব
- ম্যাক্সওয়েল ইন্টারন্যাশনাল এসপিসি থেকে ১ লাখ টন ডিজেল আমদানির প্রস্তাব
জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের অনুরোধে এসব প্রস্তাব আলোচনা থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়।
সামগ্রিক মূল্যায়ন
বিশেষজ্ঞদের মতে, বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার সময়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়ে জ্বালানি আমদানির এই উদ্যোগ দেশের অর্থনীতি ও বাণিজ্যিক কার্যক্রম সচল রাখতে সহায়ক হবে।
বিশেষ করে ই-কমার্স ও লজিস্টিকস খাতের জন্য এটি একটি স্বস্তির খবর, যা সরবরাহ ব্যবস্থাকে স্থিতিশীল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

