মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ২২

দেশের বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠীগুলোর জন্য ঋণ গ্রহণের সুযোগ আরও সম্প্রসারিত করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নতুন নির্দেশনার ফলে বড় করপোরেট গ্রুপগুলো এখন আগের তুলনায় অনেক বেশি পরিমাণ সরাসরি ঋণ নিতে পারবে। একই সঙ্গে যেসব শিল্পগোষ্ঠী ইতোমধ্যে ঋণসীমা অতিক্রম করেছে, তাদেরও নতুন নীতিমালার আওতায় বৈধ সীমার মধ্যে আনার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

বৃহস্পতিবার জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে কেন্দ্রীয় ব্যাংক একক গ্রাহক ঋণসীমার শর্ত শিথিলের ঘোষণা দেয়। সংশ্লিষ্ট ব্যাংকারদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে বড় শিল্পগোষ্ঠীগুলোর ঋণচাহিদা দ্রুত বাড়লেও বিদ্যমান সীমাবদ্ধতার কারণে অনেক ব্যাংক কাঙ্ক্ষিত পরিমাণ অর্থায়ন করতে পারছিল না। নতুন এই সিদ্ধান্তে বড় গ্রুপগুলোর পাশাপাশি ব্যাংকগুলোরও ঋণ বিতরণে কিছুটা স্বস্তি ফিরবে।

সরাসরি ঋণের সীমা বাড়ল

নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, একটি ব্যাংক এখন তাদের মোট মূলধনের সর্বোচ্চ ২৫ শতাংশ পর্যন্ত একজন গ্রাহক বা শিল্পগোষ্ঠীকে সরাসরি (ফান্ডেড) ঋণ দিতে পারবে। আগে এই সীমা ছিল ১৫ শতাংশ। তবে ফান্ডেড ও নন-ফান্ডেড—দুই ধরনের ঋণ মিলিয়ে মোট ঋণসীমা ২৫ শতাংশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে।

অর্থাৎ আগে যেখানে একটি ব্যাংক ১৫ শতাংশ সরাসরি ঋণ এবং অতিরিক্ত ১০ শতাংশ ঋণপত্র বা নন-ফান্ডেড সুবিধা দিতে পারত, এখন পুরো ২৫ শতাংশই সরাসরি ঋণ হিসেবে দেওয়ার সুযোগ থাকছে। এই সুবিধা আগামী ৩০ জুন ২০২৮ পর্যন্ত কার্যকর থাকবে বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, কোনো ব্যাংকের মোট মূলধন যদি ১০ হাজার কোটি টাকা হয়, তাহলে নতুন নিয়মে একটি শিল্পগোষ্ঠী সেই ব্যাংক থেকে সর্বোচ্চ আড়াই হাজার কোটি টাকা পর্যন্ত সরাসরি ঋণ নিতে পারবে। আগে একই ব্যাংক থেকে তারা সরাসরি ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা এবং অতিরিক্ত ১ হাজার কোটি টাকার নন-ফান্ডেড সুবিধা নিতে পারত।

বড় গ্রুপগুলোর চাপেই সিদ্ধান্ত

ব্যাংকিং খাতের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, দেশের কয়েকটি শীর্ষ শিল্পগোষ্ঠী ইতোমধ্যে বিভিন্ন ব্যাংকে তাদের ঋণসীমার কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। এর মধ্যে কিছু প্রতিষ্ঠানের নন-ফান্ডেড সুবিধাও সরাসরি ঋণে রূপান্তরিত হয়েছে। আবার কিছু বড় গ্রুপ ঋণসীমার বাধার কারণে প্রয়োজনীয় আমদানি ঋণপত্র (এলসি) খুলতে সমস্যায় পড়ছিল।

বিশেষ করে জ্বালানি খাতের এলপিজি আমদানিকারকেরা দীর্ঘদিন ধরেই ঋণসীমা শিথিলের দাবি জানিয়ে আসছিল। আন্তর্জাতিক বাজারে উচ্চমূল্য ও ডলারের চাপের কারণে বড় অঙ্কের কার্যকরী মূলধনের প্রয়োজন হওয়ায় তারা ব্যাংক ঋণের ওপর আরও বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে।

ক্ষুদ্র ও মাঝারি খাতে প্রভাবের শঙ্কা

তবে অর্থনীতিবিদ ও ব্যাংক খাত সংশ্লিষ্টদের একাংশ মনে করছেন, বড় শিল্পগোষ্ঠীগুলোর জন্য ঋণসীমা বাড়ানো হলেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের ওপর। কারণ ব্যাংকগুলো তুলনামূলক নিরাপদ ও বড় করপোরেট গ্রাহকদের দিকেই বেশি ঝুঁকতে পারে, ফলে এসএমই খাতে ঋণপ্রবাহ কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

Leave A Reply

Exit mobile version