মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ২২

উদ্বোধন হল টেন মিনিট স্কুলের নতুন একাডেমিক কোর্স ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণীর অনলাইন ব্যাচ। রাজধানীর আগারগাঁওয়ে আইসিটি বিভাগের বিসিসি অডিটোরিয়ামে এই অনলাইন ব্যাচের উদ্বোধন করেন আইসিটি বিভাগের প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক এমপি। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এসবিকে টেক ভেঞ্চারের প্রতিষ্ঠাতা সোনিয়া বশির কবির এবং স্টার্টআপ বাংলাদেশের ম্যানেজিং ডিরেক্টর সামি আহমেদ।

অনুষ্ঠানের শুরুতে টেন মিনিট স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা আয়মান সাদিক স্বাগত বক্তব্য রাখেন। তিনি বলেন, টেন মিনিট স্কুলের শুরু থেকেই আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বিভিন্নভাবে আমাদের সহযোগিতা করেছেন। শুরু থেকেই টেন মিনিট স্কুলের পাশে থাকায় আইসিটি বিভাগ ও প্রতিমন্ত্রী পলককে ধন্যবাদ জানান তিনি।

সহপ্রতিষ্ঠাতা মির্জা সালমান হোসেন বেগ টেন মিনিট স্কুলের সাম্প্রতিক সফলতার গল্প তুলে ধরেন। তিনি জানান, শুধু করোনাকালীন সময়েই ১৮ মিলিয়ন শিক্ষার্থীকে পড়িয়েছে টেন মিনিট। এই সময়েই ৪ হাজারের বেশি লাইভ ক্লাস নিয়েছে টেন মিনিট স্কুল। ২০২৩ সালের মধ্যে ১ কোটি দক্ষ তরুণ জনশক্তি তৈরির লক্ষ্য টেন মিনিট স্কুলের।

এসবিকে টেক ভেঞ্চারের প্রতিষ্ঠাতা সোনিয়া বশির কবির বলেন, টেন মিনিট স্কুল বাংলাদেশে অনলাইনে শিক্ষার ক্ষেত্রে অগ্রদূত। ভবিষ্যতে লেখাপড়া এবং এডুটেকে নতুন নতুন প্রযুক্তি যুক্ত হবে, যেমন- অগমেন্টেড রিয়েলিটির মাধ্যমে ভার্চুয়াল ক্লাসরুম। আমরা টেন মিনিট স্কুলের প্রথমদিকের ইনভেস্টর হিসেবে এই যাত্রার পাশে থাকতে পেরে অত্যন্ত আনন্দিত। শুরু থেকেই টেন মিনিট স্কুলের পাশে থাকায় আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলককে ধন্যবাদ জানান তিনি।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে স্টার্টআপ বাংলাদেশ এর ম্যানেজিং ডিরেক্টর সামি আহমেদ বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, তরুণরাই বাংলাদেশের ভবিষ্যত। টেন মিনিট স্কুল দেশের তরুণদের শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে দক্ষ জনশক্তি উন্নয়নে কাজ করছে। আমরা আশা করি টেন মিনিট স্কুল একটি সফল গ্লোবাল প্ল্যাটফর্মে পরিণত হবে। দেশের সেরা স্টার্টআপ হিসেবে টেন মিনিট স্কুলকে স্বীকৃতি দেওযাই যায়। আমি টেন মিনিট স্কুলের নতুন এই কোর্সের সফলতা কামনা করছি।

অনুষ্ঠানের অতিথি এবং টেন মিনিট স্কুলের টিমের সদস্যদের নিয়ে এই “অনলাইন ব্যাচ” উদ্বোধন করেন আইসিটি বিভাগের প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। নতুন এই কোর্সের বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেন টেন মিনিট স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা আয়মান সাদিক। তিনি জানান, ৩ কোটি ৫০ লাখ শিক্ষার্থীকে স্মার্ট স্টুডেন্ট হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করছে টেন মিনিট স্কুল।
কোভিডের সময় ফেসবুকে লাইভ ক্লাস নেওয়া শুরু করে টেন মিনিট স্কুল। লাইভ ক্লাসে শিক্ষার্থীদের দারুণ সাড়া পায় টেন মিনিট স্কুল৷ এরই প্রেক্ষিতে টেন মিনিট স্কুলের নিজস্ব ওয়েবসাইট এবং অ্যাপ এ লাইভ ক্লাস শুরু করা হয়। প্রতিটি লাইভ ক্লাস শেষে হোমওয়ার্ক ও পরীক্ষার আয়োজন থাকে, পরীক্ষার ফলাফল অভিভাবকদের কাছে রিপোর্ট আকারে অবগত করা হয়। লাইভ ক্লাস পরবর্তীতে রেকর্ডেড দেখারও সুযোগ পাবেন শিক্ষার্থীরা। লাইভ ক্লাস শেষ হবার পর আধা ঘন্টা পর্যন্ত শিক্ষকদের সাথে সরাসরি প্রশ্নোত্তর করার সুবিধা পায় শিক্ষার্থীরা। টেন মিনিট স্কুলের এই উদ্যোগ শুধুমাত্র অনলাইন ক্লাসই নয়, এটি একটি “কমপ্লিট এডুকেশন সিস্টেম”। এই অনলাইন কোর্সে ষষ্ঠ থেকে দশম প্রত্যোক শ্রেনীর ৬ টি বিষয়ে শিক্ষার্থীদের পড়ানো হয়। টেন মিনিট স্কুলের অ্যাপ ও ওয়েবসাইটের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা এই লাইভ ক্লাসে রেজিস্ট্রেশন ও অংশগ্রহন করতে পারে।

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি জুনাইদ আহমেদ পলক এমপি বলেন, টেন মিনিট স্কুল আজ শুধু বাংলাদেশে নয়, বিশ্বের অন্যতম সেরা একটি এডুকেশনাল প্ল্যাটফর্ম। টেন মিনিট স্কুল বাংলাদেশের গর্ব। স্মার্ট বাংলাদেশ ও স্মার্ট নাগরিক তৈরিতে এই সাড়ে ৩ কোটি শিক্ষার্থীরাই নেতৃত্ব দিবে। এজন্য বর্তমান প্রজন্মকে এই স্মার্ট নাগরিক হিসেবে আমাদের গড়ে তুলতে কাজ করতে হবে। টেন মিনিট স্কুলের নতুন উদ্যোগের সার্বিক সফলতা কামনা করেন তিনি। এসময় রিসার্চ ও ইনোভেশন নিয়ে বিভিন্ন প্রজেক্ট ও কোর্স তৈরির নির্দেশন দেন তিনি।

Leave A Reply

Exit mobile version